২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়ার গ্যাস আমদানি বন্ধ করবে ইইউ

জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলএনজি আমদানি পুরোপুরি বন্ধের পরিকল্পনা নিয়েছে।

জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলএনজি আমদানি পুরোপুরি বন্ধের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ-সংক্রান্ত রোডম্যাপ মঙ্গলবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেছে ইইউ। খবর বিবিসি।

ইইউর জ্বালানি কমিশনার ড্যান ইয়রগেনসেন বলেন, ‘আমরা রাশিয়াকে আর কখনো জ্বালানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেব না। আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। কিন্তু এখনো অনেক কিছু করা বাকি।’

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের পর থেকেই ইইউ ধীরে ধীরে রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তবে ইউরোপিয়ান কমিশনের মতে, সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতার জন্য আরো কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালে ইইউর মোট প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ৪৫ শতাংশ আসত রাশিয়া থেকে, যা ২০২৪ সালে কমে ১৯ শতাংশে নেমেছে। জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও আমদানির হার ২০২২ সালের শুরুতে ২৭ শতাংশ থাকলেও এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ শতাংশে। তবে পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষেত্রে এখনো ১৪ শতাংশ ইউরেনিয়াম রাশিয়া থেকেই আমদানি করা হচ্ছে।

নতুন পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সব সদস্যদেশকে ২০২৭ সালের মধ্যে রুশ গ্যাস, জ্বালানি তেল ও পারমাণবিক জ্বালানির বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, জ্বালানির দক্ষতা বাড়ানো ও সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যকরণের ওপর জোর দেয়া হবে।

রোডম্যাপে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন মালিকানার জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার ব্যবহারের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে জ্বালানি তেল রফতানি চালিয়ে যাচ্ছে।

ইইউর পরিকল্পনার সমালোচনা করে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘ইউরোপ নিজেদের পায়ে নিজেই গুলি করছে।’

আরও